বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম মার্চে কিছুটা বেড়েছে। এ সময় ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও খাদ্যশস্য ও চিনির দরপতন হয়েছে। সর্বশেষ মাসভিত্তিক মূল্যসূচক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিভাগ (এফএও)। খবর রয়টার্স।
এফএওর মূল্যসূচক মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হওয়া খাদ্যপণ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক ছিল ১২৭ দশমিক ১ পয়েন্ট, যা ফেব্রুয়ারির সংশোধিত ১২৬ দশমিক ৮ পয়েন্ট থেকে কিছুটা বেশি। এছাড়া মার্চের সূচকটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
জাতিসংঘের সংস্থাটির দেয়া তথ্যানুযায়ী, মার্চে ভোজ্যতেলের এফএও মূল্যসূচক ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
গত মাসে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের মূল্য ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। বছর ভিত্তিতে তা নিম্নমুখী হয়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। এ সময় উত্তর গোলার্ধের প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোয় উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ কমেছে। মার্চে যবের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও নিম্নমুখী ছিল ভুট্টা ও সরগমের দাম। এফএও জানায়, দুর্বল আমদানি চাহিদা ও পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে চালের গড় মূল্যসূচক ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।
চিনির গড় দাম মার্চে ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল হওয়ার পূর্বাভাস দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে এ সময় দক্ষিণ ব্রাজিলে বৃষ্টিপাত হলেও ব্রাজিল ও ভারতের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ থেকে গেছে।
মার্চে বৈশ্বিক দুগ্ধজাত পণ্যের দাম ফেব্রুয়ারির তুলনায় অপরিবর্তিত ছিল।
এফএও একটি পৃথক প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস কিছুটা সংশোধন করে ২৮৪ কোটি ৯০ লাখ টনে উন্নীত করেছে, আগে যা ছিল ২৮৪ কোটি ২০ লাখ টন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন হতে পারে ৭৯ কোটি ৫০ লাখ টন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় স্থিতিশীল।